উত্তর ভারতে বিবাহিত মহিলাদের ব্রতগুলির মধ্যে করবা চৌথ অন্যতম। স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করে স্ত্রীরা এই ব্রত পালন করে থাকেন। সাধারণত এই দিনে উপবাসের মধ্যে দিয়ে তাঁরা 16টি অলঙ্করণ অনুসরণ করে স্বামীদের দীর্ঘজীবন প্রার্থনা করেন। কপালে সিঁদুর ও হাতে রঙিন চুড়ি পরে চাঁদের কাছে তাঁদের প্রার্থনা করতে দেখা যায় । কিন্তু ব্যতিক্রম উত্তরপ্রদেশের মথুরার এক গ্রাম ৷ জেলা সদর দফতর মথুরা থেকে 40 কিলোমিটার দূরে সুরির কাছে অবস্থিত এই গ্রামটির নাম বাঘা ।
এখানকার বিবাহিত মহিলারা চিরাচরিতভাবে চলে আসা এই ব্রত পালন করেন না। এই গ্রামের মহিলাদের বিশ্বাস, করবা চৌথ পালন করলে তাঁদের স্বামীদের মৃত্যু হবে। একজন মহিলার অভিশাপে এই ঘটনা ঘটবে বলেই বিশ্বাস তাঁদের । ওই মহিলার স্বামীর এই করবা চৌথের দিনই মৃত্যু হয়েছিল। শোনা যায়, তারপর থেকে যে সমস্ত মহিলারা করবা চৌথের উপবাস করার চেষ্টা করেছিল তাঁদের স্বামীই প্রাণ হারান । প্রায় 250 বছর ধরে মহিলারা এই বিশ্বাসের উপর ভর করে করবা চৌথ পালনে বিরত থাকেন। এখানকার বিবাহিত মহিলারা 16টি অলঙ্করণ অনুসরণ থেকে শুরু করে কপালে সিঁদুর। ও হাতে রঙিন চুড়িও পরেন না ।
পরিবর্তে এদিন তাঁরা স্থানীয় সতী মন্দিরে গিয়ে জল নিবেদন করেন। পুজো সেরে বাড়ি ফেরেন । এই বিষয়ে গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এর আগে অনেক মহিলা সতীদাহের অভিশাপে বিশ্বাস না করে করবা চৌথের উপবাস করেছিলেন তাঁদের করুণ পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। জনশ্রুতি আছে যে, এক ব্রাহ্মণ পিতা-মাতার কন্যা গাড়িতে বসে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। সেই সময় রাম নাগলার ঠাকুর সম্প্রদায়ের লোকজন গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং বিবাহিত মহিলা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মোষ চুরির অভিযোগ আনে। দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর মহিলার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করে ঠাকুর সম্প্রদায়ের লোকজন ।
এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের স্ত্রী গ্রামের লোকেদের অভিশাপ দিয়েছিলেন যে করবা চৌথের দিন যেভাবে তাঁর স্বামীর প্রাণ গেল তাতে এই গ্রামের কোনও মহিলা করবা চৌথ পালন করলে সেও তার স্বামীকে হারাবে। সেই থেকেই বাঘা গ্রামের বিবাহিত মহিলারা করবা চৌথ পালন করা থেকে বিরত থাকেন।