পাঁচশো বছর ধরে চলে আসা মালিয়াড়া রাজবাড়ির দুর্গাপুজোকে ঘিরে আজও আবেগে মাতে বড়জোড়া

12th October 2023 11:24 pm State News
পাঁচশো বছর ধরে চলে আসা মালিয়াড়া রাজবাড়ির দুর্গাপুজোকে ঘিরে আজও আবেগে মাতে বড়জোড়া


বাঁকুড়ার বড়জোড়া ব্লকের মালিয়াড়া রাজবাড়ির ইতিহাস বেশ পুরনো। কথিত আছে, স্বয়ং মুঘল সম্রাট আকবরের পাঞ্জা (নির্দিষ্ট এলাকায় শাসনের অধিকারনামা) নিয়ে দামোদর নদ পেরিয়ে বাঁকুড়ার মালিয়াড়া গ্রামে উপস্থিত হন কান্বকুব্জ (কনৌজ থেকে আসা) ব্রাহ্মন দেও অধুর্য। সে সময় দামোদরের পশ্চিম পাশ ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। জঙ্গলে ঘেরা ছোট ছোট গ্রামগুলি ছিল স্থানীয় আকুড়ে সম্প্রদায়ের দখলে। মালিয়াড়া গ্রামে পা দিয়েই সেই আকুড়েদের নিজের বশে এনে মালিয়াড়া রাজত্বের সূচনা করেন দেও অধুর্য। ধীরে ধীরে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও ক্ষমতায় মালিয়াড়া রাজবাড়ির সীমানা ছড়িয়ে পড়ে পূর্বে দামোদর থেকে পশ্চিমে শালী নদী পর্যন্ত। কয়েকশো মৌজার হাজার হাজার বিঘে জমি মালিয়াড়া রাজপরিবারের অধিকারে আসে। রাজত্বের বিপুল আয়ে অল্প দিনেই ফুলেফেঁপে ওঠে রাজকোষ। মালিয়াড়া গ্রামে রাজার সুবিশাল প্রসাদ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজ প্রাসাদের অন্দরেই তৈরি হয় বিশাল দুর্গা দালান। কথিত আছে, রাজত্ব প্রতিষ্ঠার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আজ থেকে প্রায় পাঁচশো বছর আগে রাজ পরিবারের দুর্গাদালানে মহা সমারোহে শুরু হয় দুর্গাপুজো। গোড়া থেকেই এই মন্দিরে অষ্টধাতুর মূর্তিতে পুজো চলে আসছে।

 

রাজ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মালিয়াড়া রাজপরিবারের মন্দিরে পুজো শুরু হয় মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ তিথিতে। সপ্তমী থেকে মন্দিরে শুরু হওয়া হোম একটানা চলে নবমীর দুপুর পর্যন্ত। অতীতে পুজোর প্রতিটি নির্ঘণ্ট তোপধ্বনীর সাহায্যে সূচিত হলেও বর্তমানে শুধুমাত্র অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে তোপ দাগা হয়। রাজ্যপাট থাকাকালীন পুজোর কয়েকটা দিন ধরে রাজবাড়ির প্রাঙ্গনে হত বাইজি নাচ, রামলীলা, সংকীর্তন-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ।

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন পুজোর সেই জেল্লা-জমক অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। রাজন্য প্রথা বিলোপের পর ক্রমেই অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে মালিয়াড়ার রাজপরিবার। বিশাল রাজপ্রাসাদ সংস্কারের অভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রাচীন মন্দিরে গা থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা। কিন্তু দুর্গাপুজার নিয়ম নিষ্ঠা ও আচারে এতটুকুও আঁচ পড়তে দেননি রাজ পরিবারের সদস্যেরা । মালিয়াড়া রাজবাড়ির সদস্য মেঘাদ্রি নারায়ন চন্দ্রাধূর্য বলেন, ‘‘পুজোতে আগে যে জৌলুস ছিল, এখন তার সিঁকি ভাগও নেই। কিন্তু পুজোর নিয়ম নিষ্ঠা আজও একই রকম আছে। সাম্প্রতিক কালে এলাকায় নতুন করে বহু পুজো শুরু হলেও রাজবাড়ির এই পুজোর আবেগ রীতিমতো তাড়া করে বেড়ায় এলাকার মানুষকে। পুজোর কয়েক দিন দূর-দূরান্তের বহু মানুষ ছুটে আসেন প্রাচীন এই মন্দিরে।’’





Others News

পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ |

পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ |


সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা মেনে পশ্চিমবঙ্গে আজ প্রকাশিত হতে চলেছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই তালিকা প্রকাশ রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক স্তরে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।


ভোটার তালিকার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

  • মোট ভোটারের সংখ্যা: খসড়া তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৮ লক্ষ, যা এই চূড়ান্ত তালিকাতেও অপরিবর্তিত থাকছে।

  • বিশেষ ক্যাটেগরি বিভাজন: এবারের তালিকায় নামের পাশে বিভিন্ন বিশেষ মন্তব্য বা 'মার্ক' থাকছে। যাদের আবেদন সম্পূর্ণ মঞ্জুর হয়েছে, তাদের নাম স্বাভাবিকভাবেই তালিকায় থাকছে।

  • বাতিল হওয়া নাম: যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, তাদের নামের পাশে স্পষ্টভাবে "Deleted" (বাতিল) লেখা থাকবে।

  • বিচারাধীন আবেদন: যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথিপত্র এখনও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দ্বারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাদের নামের পাশে "Under Adjudication" (বিচারাধীন) উল্লেখ করা থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভিন রাজ্য থেকেও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে।

  • তালিকা দেখার সুবিধা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) ওয়েবসাইট এবং ECI Net অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি দেখা যাবে। এছাড়া জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বিডিও অফিসেও অফলাইন কপি সাধারণ মানুষের পরিদর্শনের জন্য উপলব্ধ থাকবে।


রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, এই প্রথমবার কোনো ভোটার তালিকায় 'Adjudication' বা বিচারাধীন মার্ক যুক্ত করা হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত এই যাচাই পর্ব চলবে এবং পরবর্তীতে একাধিক সাপ্লিমেন্টারি বা পরিপূরক তালিকাও প্রকাশ করা হবে।