রাঁচী বিমান দুর্ঘটনা: আকাশে ২৩ মিনিট, তারপরই রেডার ব্ল্যাঙ্ক— ‘বিচক্র্যাফ্ট সি৯০’-এর শেষ সিগন্যাল কলকাতায়।

24th February 2026 10:26 am Country News
রাঁচী বিমান দুর্ঘটনা: আকাশে ২৩ মিনিট, তারপরই রেডার ব্ল্যাঙ্ক— ‘বিচক্র্যাফ্ট সি৯০’-এর শেষ সিগন্যাল কলকাতায়।


রাঁচি থেকে দিল্লিগামী এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি কী ভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সোমবার রাতে ঝাড়খণ্ডের ছাতরায় ভেঙে পড়ে ‘রেডবার্ড এয়ারওয়েজ়’-এর একটি মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান। রোগী, দুই পাইলট, চিকিৎসক ও প্যারামেডিক-সহ মোট সাতজন ছিলেন বিমানে—দুর্ঘটনায় সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।

অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ-র প্রকাশ করা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি থেকে উড্ডয়ন করে দিল্লির উদ্দেশে। উড়ানের কিছুক্ষণ পর কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে পাইলটরা এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে রুট পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সময়ে রেডার থেকেও হারিয়ে যায় বিমানটি। উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে শেষবার সেটিকে শনাক্ত করা গিয়েছিল।

রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে খারাপ আবহাওয়াকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার তদন্তে নামছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। ইতিমধ্যেই প্রতিনিধিদল দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ওই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে ৪১ বছর বয়সি সঞ্জয় কুমারকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য। তাঁর শরীরের ৬৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিমানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক বিকাশকুমার গুপ্ত, প্যারামেডিক সচিনকুমার মিশ্র, এবং সহযাত্রী অর্চনা দেবী ও ধীরু কুমার। বিমানটি চালাচ্ছিলেন পাইলট সবরাজদীপ সিংহ ও বিবেক বিকাশ ভগত। দুর্ঘটনায় তাঁদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।