সপ্তাহের মাঝেই কর্মব্যস্ত দিনে কার্যত অচল হয়ে পড়ল কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। বুধবার শহরে একসঙ্গে দু’টি বড় কর্মসূচির জেরে সকাল থেকেই তীব্র যানজটের কবলে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। এক দিকে সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে আশাকর্মীদের অভিযান, অন্য দিকে ধর্মতলার শহিদ মিনারে আইএসএফের কর্মসূচি—এই দুই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির ছবি ধরা পড়ে ইএম বাইপাসে। সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউনের অফিসপাড়ায় যাওয়ার পথে নিকো পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকেই গাড়ির গতি কমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে যানজট ছড়িয়ে পড়ে চিংড়িঘাটা পর্যন্ত। সায়েন্স সিটির মোড়ে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি সময় সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অফিসযাত্রীদের। চিংড়িঘাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত রাস্তা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ ছিল আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বুধবার সকালে কলকাতায় আসেন তাঁরা। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নামতেই তৈরি হয় ব্যাপক ভিড়। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশন চত্বর এবং সংলগ্ন রাস্তায় বিশৃঙ্খলার কারণে বাস বা অন্যান্য যান ধরতে চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। স্টেশন এলাকা ছাড়াও আশপাশের রাস্তাগুলিতেও যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনের সামনে পৌঁছে আশাকর্মীদের একটি বড় অংশ বিক্ষোভে সামিল হন। সেখানে আগে থেকেই ব্যারিকেড বসানো ছিল। সেই ব্যারিকেড টপকে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর জেরেই সেক্টর ফাইভ এলাকায় আরও তীব্র হয় যানজট।
এদিকে শহরের অন্য প্রান্তেও স্বস্তি ছিল না। আইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ধর্মতলার শহিদ মিনারে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে উত্তর ২৪ পরগনা-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস ও ট্রাকে করে সমর্থকেরা আসেন। ফলে এজেসি বোস রোড, এসএন ব্যানার্জি রোডে ভিড় বাড়ে। অনেক সমর্থকের গাড়ি সায়েন্স সিটি হয়ে ধর্মতলার দিকে যাওয়ায় সায়েন্স সিটি মোড়, তপসিয়া এবং পার্ক সার্কাস এলাকাতেও যানজট তৈরি হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আশাকর্মীদের একটি দল শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন। নিউ মার্কেট থানার কাছে সেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে আবারও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। এর ফলে নিউ মার্কেট চত্বর এবং এসএন ব্যানার্জি রোডে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শহরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক কর্মসূচি থাকায় কিছু এলাকায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, স্থায়ী সাম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া পরিশোধ-সহ একাধিক দাবিতে টানা আন্দোলন চালাচ্ছেন আশাকর্মীরা। তাঁদের দাবি আদায়ে গত ২৯ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি চলছে। বুধবার সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই স্বাস্থ্য ভবনে ডেপুটেশন জমা দিতে অভিযান করেন তাঁরা।