ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু, কৃষক-শ্রমিকদের নেতৃত্বে সিপিএমের নতুন কৌশল
নতুন বছরে ফের ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করেছে সিপিএম। তবে, দলীয় উদ্যোগে নয়, এবার সমাবেশ ডাক দিয়েছে কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুর ও বস্তি সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের দু'দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০ এপ্রিল ব্রিগেডে সমাবেশ
আগামী ২০ এপ্রিল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এই সমাবেশ। সিটুর রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু বলেছেন, "গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরেছে তৃণমূল-বিজেপি। তাই, তাঁদের অধিকার আদায়ে ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।"
ব্রিগেড ভরলেও ভোট বাক্স খালি, সিপিএমের নতুন কৌশল?
শেষবার ছাত্র-যুবদের নেতৃত্বে ব্রিগেড সমাবেশ করেছিল সিপিএম। সেই সমাবেশে ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ছিলেন অন্যতম মুখ। বিশাল জমায়েত হলেও নির্বাচনে তার প্রভাব পড়েনি। ২০০৭ সাল থেকে ক্রমাগত সিপিএমের শক্তিক্ষয় ঘটেছে, যা এখনও অব্যাহত।
এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে এবার সিপিএম সরাসরি ব্রিগেডের ডাক না দিয়ে কৃষক, শ্রমিক, খেতমজুর সংগঠনের মাধ্যমে সমাবেশ আয়োজন করছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গরিব মানুষের সমর্থন ফিরে পেতে নতুন কৌশল নিয়েছে দল।
বামফ্রন্টের সহযোগিতা নেই, কিন্তু আপত্তিও নেই
অনাদি সাহু জানিয়েছেন, "এটি আমাদের চারটি সংগঠনের অফিসিয়াল কর্মসূচি। এখনও পর্যন্ত বামফ্রন্ট বা বৃহত্তর বাম ঐক্যের সঙ্গে আলোচনা হয়নি।"
তবে, সূত্রের খবর অনুযায়ী, বামফ্রন্ট বা অন্য বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী সংগঠনগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচিতে থাকছে না, তবে তাদের সমর্থন পেলে আপত্তি নেই।
সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিতর্ক
সিপিএমের দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক নতুন বছরের শুরুতেই আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক নেতা প্রশ্ন তোলেন, "এখন উৎসবের সময়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ প্রয়োজন। এই মুহূর্তে বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা কী?"
এছাড়াও, মহিলা সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্মেলনের প্যানেল থেকে ১৮ জনের নাম প্রত্যাহার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।
রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই সমস্ত বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
রাজনীতির ময়দানে ফের জমায়েত, নতুন সমীকরণ গড়তে পারবে কি সিপিএম?
ব্রিগেডের জমায়েত বড় করাই সিপিএমের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং গরিব মানুষের সমর্থন পুনরুদ্ধার করা তাঁদের মূল লক্ষ্য। এই নতুন কৌশল বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।