অভিষেকের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার যুব তৃণমূল নেতা

23rd December 2024 1:01 pm Political
অভিষেকের নাম করে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার যুব তৃণমূল নেতা


পোস্তা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড নেতা তরুণ তিওয়ারিকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে extortion বা তোলাবাজি করেছেন। এই ঘটনাটি হাওড়ার লিলুয়ার এক ব্যবসায়ী, সচিন পালিতের অভিযোগের ভিত্তিতে সামনে আসে।

অভিযোগকারী সচিন পালিত জানান, তরুণ তিওয়ারি তাকে বলেন যে তার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং এর প্রমাণ হিসেবে তাকে অভিষেকের সঙ্গে নিজের ছবিও দেখান। এরপর, তিনি ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গতকাল, পালিতের মা যখন তরুণ তিওয়ারির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখন তরুণের আচরণ ছিল অশোভন এবং তিনি বলেন, “টাকা দিলে মা ছাড়া হবে।”

এদিকে, পালিত জানান, প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা চাওয়া হলেও তিনি আড়াই লক্ষ টাকা দেন। এরপরই অভিযোগ দায়ের করা হয় পোস্তা থানায়। তৃণমূল কংগ্রেস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তরুণ তিওয়ারিকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক পদ থেকে সাসপেন্ড করে এবং তাকে দলের বৈঠকগুলো থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ বলেন, “দলবিরোধী কাজের জন্য তরুণ তিওয়ারিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাকে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হবে না।”

পুলিশ তরুণ তিওয়ারির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১২৭(৭), ৩০৮(৫), ৩৫১(৩), ৭৯ এবং ৩(৫)। এছাড়া, তার সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা রাহুল পুরোহিত এবং রাহুল সিং নামে পরিচিত।

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “তৃণমূল একটি বড় দল। তবে যখন এমন অভিযোগ আসে, তখন তৃণমূল তৎকালিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটা দলের গ্রহণযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কিছু মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।





Others News

কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য ‘নয়া করিডর’, নির্বাচনী বছরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা |

কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য ‘নয়া করিডর’, নির্বাচনী বছরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা |


সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার ঠিক আগেই পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গতকাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্পোন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রের এই ঘোষণাকে ‘ভোটমুখী জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাজেটে বাংলার প্রাপ্তি: কী কী ঘোষণা?

অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের (‘পূর্বোদয়’) ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বাংলার জন্য প্রধান ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ডানকুনি-সুরাত পণ্যবাহী করিডর: পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাত পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (Dedicated Freight Corridor) তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি রাজ্যের লজিস্টিক ও পরিবহন শিল্পের জন্য গেম-চেঞ্জার হতে পারে।

  • বেনারস-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল: উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত করতে বেনারস থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে।

  • দুর্গাপুর শিল্প করিডর: ইস্ট-কোস্ট ইকোনমিক করিডরের অংশ হিসেবে দুর্গাপুরে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল নোড বা শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: রাজ্যের ক্ষোভ বনাম কেন্দ্রের দাবি

বাজেট ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে ‘দিশাহীন’ ও ‘জনবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। ডানকুনি করিডরের কথা আমি রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই বলেছিলাম, এটা নতুন কিছু নয়। নির্বাচনের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।” তৃণমূলের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ বা আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্যের বকেয়া টাকার বিষয়ে বাজেটে কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, “এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নে নতুন জোয়ার আনবে। ডানকুনি ও দুর্গাপুরের প্রকল্পগুলি রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে।”

আজ থেকে শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা

বাজেট রাজনীতির উত্তাপের মধ্যেই আজ, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পর্ষদের তরফে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবায় নজরদারি চালানো হচ্ছে।